Home / ইসলামী দুনিয়া / রফে ইয়াদাইন করা হারাম নাকি? – আপু আহমেদ।

রফে ইয়াদাইন করা হারাম নাকি? – আপু আহমেদ।

  1. রফেইয়াদাইন করা কি হারাম নাকি ?

চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে একবার মাওলানা কামাল উদ্দিন জাফরি এবং মাওলানা খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহঙ্গির রহ একই সাথে দাওয়াত পেয়েছিলেন। বিশ্রাম রুমে আমাদের কে খেদমতের সুযোগ দেওয়া হয়েছিলো। আমি খোন্দকার জাহাঙ্গির রহ কে প্রশ্ন করলাম, রফে ইয়াদাইন না করলে কি নামাজ হবে না ?

তিনি বললেন, হযরত থাকতে আমি বলতে চাচ্ছি না। জাফরি সাহেব হেসে দিয়ে বললেন, এটা একটি প্রমানিত সুন্নাহ। জীবনে একবার হলেও রফেইয়াদাইন করা উচিত। সেদিন দুজনের সোহবতে অনেক কিছুই জেনেছিলাম, সেগুলো নিয়ে আরেক দিন কথা বলবো।

.

যাই হোক, বয়ান শুনে বাড়ি আসতে আসতে রাত একটার কাছাকাছি। চিন্তা করলাম, কয়েক রাকায়াত নামাজ পড়েই ঘুমাই। নামাজে দাড়িয়ে স্বিদ্ধান্ত নিলাম আজকের নামাজগুলোতে রফেইয়াদাইন করবো। দিনের বেলা মসজিদে রফেইয়াদাইন করলে পাবলিকের চিল্লাফাল্লা শুরু হবে এবং ডা জাকির নায়েকের গোষ্টি উদ্ধার করে ছাড়বে। কারণ এসব সব কিছুর জন্য ডা জাকির নায়েক দোষারোপ করা কিছু লোকের ট্রেডিশান হয়ে দাড়িয়েছি।

.

পাবলিসিটি করা শুরু হয়ে যাবে যে, জাকির নায়েকের বক্তব্য শুনে অপু আহলে হাদিস হয়ে গেছে। হয়তো এরপরে বলা শুরু হবে, জামায়াত শিবির আহলে হাদিস হয়ে গেছে। সমাজের মানুষগুলোর, বিশেষ করে অতিধার্মিকতার বেশ ধরে মসজিদে পড়ে থাকা লোকগুলোর জ্ঞানের হালত দেখলে কষ্ট হয়। তারা আশে পাশের কারো নামাজে একটু ব্যতিক্রম দেখলেই আড় চোখে তাকানো শুরু করেন। মনে হয় ঐ লোকটা তার মাজহাব না মেনে কুফরি করে ফেলেছে।

.

চিন্তামতো রফেইয়াদাইন সহকারেই নামাজ পড়লাম। বিতর পড়তে গিয়ে রুকু থেকে দাড়িয়ে হাত তুলে দোয়াও করলাম। সকালে ফজর পরে মসজিদে গিয়ে দেখলাম  মাহফিলের বক্তাদের কথাবার্তা নিয়ে দারুন আলোচনা হচ্ছিলো। বাড়ি ফিরতে একটু দেরি হয়ে গেলো। ফোন আসলে বউর বড় ভাইর মোবাইল থেকে। তিনি আবার তাবলীগের বিশাল বড় মুবাল্লিগ। কাকরাইলের মুরব্বিদের সাথে নিজামুদ্দিন সহ পাকিস্তানের ইজতেমায় সফর করার অভিজ্ঞতা আছে।

.

তিনি আমাকে বললেন, আপনি নাকি কিসব নতুন পদ্ধতিতে নামাজ, দোয়া কালাম শুরু করছেন। আমি তো অবাক। যে ভয়ে রাতের বেলা নামাজ পড়লাম, সেটা জানাজানি হয়ে গেলো কিভাবে। বললাম, আপনাকে কে বললো ? বললো, আসমা (সকিনার মায়) ফোন  করে বললো আপনি তাহাজ্জুদের নামাজ আহলে হাদিসদের মতো করে পড়েন।

.

তাকে গোটা ঘটনাটি খুলে বলার পড়েও তিনি আশ্বস্ত হতে পারেননি। তিনি বললেন, কি দরকার এসব ফেতনার সাথে জড়ানোর। খুব খারাপ লাগলো, এত সহজ বিষয়টি তিনি কঠিন করে দেখলেন ! তিনি বাড়িতেও বিষয়টি নিয়ে কথা বললেন। শাশুরী আম্মাও আমাকে প্রশ্ন করলো। এক কান দু কান করে অনেকের কাছেই চলে গেলো। আমাদের ইমাম সাহেবও কার কাছে জেনে আমাকে প্রশ্ন করলেন। ব্যাপারটি এমন পর্যায়ে দাড়িয়ে গেলো যে, আমি মনে হয় রফেইয়াদাইন করে কুফরী করে ফেলেছি।

.

ঘটনাটি শেয়ার করার কারণ হলো, এরকম মানসকিতার জন্য কারা দায়ী বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করা। যারা বয়ানে বিবৃতিতে, রফেইয়াদাইনকে আহলে হাদিসদের ভুল মাসয়ালা বলে প্রচার করলেন, নিজের মাজহাবকে উর্ধ্বে তুলে ধরতে প্রতিষ্টিত একট সুন্নাত কে প্রায় অপদস্ত করে ছাড়লেন তারা এর জন্য কি জবাব দেবেন। এই ঘটনা থেকে আমি একটি বিষয় স্পষ্ট বুঝতে পেরেছি, সব ফতোয়া কেন সব জায়গায় প্রকাশ করা যায় না।

 

মানুষ মানুষের বিধানের গোলামী করছে, কুফরি, তাগুতি শক্তির নেতৃত্বে পথ চলে দুনিয়া আখেরাত ধ্বংস করছে, এর জন্য যাদের কলিজায় কোন কষ্ট অনুভূত হয় না, তাদের যখন আমার দ্বারা রফেইয়াদাইনের আমলের কারনে মনোকষ্টে ভুগতে দেখি, তখন তাদের ইলমের হালত এবং মানসিকতার দৈন দশার ওপর মাতম করতে ইচ্ছে হয়। আল্লাহ পাক সবাইকে সহীহ বুঝ দান করুন।

Check Also

ভালো না লাগলে ফেসবুক ছেড়ে চলে যান।প্রকাশকদের ফেসবুক।

ফেসবুক উন্নত মানের খবর পরিবেশন করতে তাদের নিউজফিডে যেসব পরিবর্তন ঘটাচ্ছে, সেগুলো বিভিন্ন জায়গার স্থানীয় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: