Home / জাতীয় / নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতন হত্যা বন্ধে কার্যকর কিছু করেনি বাংলাদেশ – যুক্তরাষ্ট্র

নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতন হত্যা বন্ধে কার্যকর কিছু করেনি বাংলাদেশ – যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশের মানবাধিকারের তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে যেসব খাতে মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটেছে তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। ২০১৭ সালের ওপর প্রণীত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে সবচেয়ে গুরুতর যেসব মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটেছে তার মধ্যে রয়েছে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড , নির্যাতন, মর্জিমাফিক ও বেআইনি আটকে রাখা, নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে জবরদস্তি গুম , নাগরিক স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা। রয়েছে সংবাদ মাধ্যম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা। রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের স্বাধীনতা নেই।

রয়েছে দুর্নীতি, সহিংসতা, লিঙ্গগত বৈষম্য, রয়েছে যৌনতা বিষয়ক অপরাধ, ধর্মীয় বিষয়। আর রয়েছে জবাবদিহিতার অভাব। এখনও মানব পাচার একটি গুরুত্বর সমস্যা । রয়েছে শ্রমিকদের অধিকারের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা। শিশু শ্রমের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। এ ছাড়া রয়েছে নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের হাতে নির্যাতনের অভিযোগ থেকে তাদেরকে দায়মুক্তি দেয়ার ব্যাপকতা।

নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা যেসব নির্যাতন বা হত্যাকাণ্ড ঘটায় তা তদন্তে বা বিচার প্রক্রিয়ায় সরকার সীমিত পদক্ষেপ নিয়েছে। পুলিশ ও নিরাপত্তামুলক সেবাখাতগুলোতে জনগণের রয়েছে অনাস্থা। এ জন্য তারা ফৌজদারি কোন ঘটনা রিপোর্ট করতে বা সরকারি বাহিনীর সহায়তা নেয়া থেকে বিরত থাকেন।

শুক্রবার এ রিপোর্ট প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন জে সুলিভান। ওই রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধান সংবাদ মাধ্যমের মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে। কিন্তু এই অধিকারের প্রতি প্রায়শ সরকার সম্মান দেখায় না। সংবিধানের সমালোচনা রাষ্ট্রদ্রোহের সমান ।

২০১৬ সালে বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব মাহমুদুর রহমান মান্না ও সাংবাদিক কনক সারওয়ারসহ উচ্চ পর্যায়ের অনেক ব্যক্তি বিশেষের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে মান্না ও কনক সারোয়ারের বিচার প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হয়নি সরকার। ঘৃণা ছড়িয়ে পড়ে এমন বক্তব্যকে সীমাবদ্ধ করেছে আইন। কিন্তু ঘৃণামুলক বক্তব্যের সংজ্ঞা কি তা পরিষ্কার করা হয় নি। এর ফলে হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে সরকার বড় শক্তি ব্যবহার করার সুযোগ পায়।

যেসব মিডিয়া সরকারের সমালোচনা করেছে তারা সরকারের নেতিবাচক চাপের মুখে পড়েছে। মাখে মাঝে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোসহ কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক হামলা, হয়রানি ও ভীতি প্রদর্শন করেন। এতে গত অক্টোবরে একটি অনলাইন নিউজ আউটলেটের একজন সাংবাদিক উৎপল দাসের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রফেসর ও সামাজিক মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুবাশ্বের হাসান গত বছর ৪৪ দিন নিখোঁজ ছিলেন। দ্য ওয়্যার নামে একটি সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট অভিযোগ করে যে, একটি বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা এই নিখোঁজের জন্য দায়ী।

এর ফলে ওই ওয়েবসাইটটি ব্লক করে দেয় সরকার। ১৭ই মে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিদেশের দূতবাসগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়। বাংলাদেশী কোন সাংবাদিক বিদেশ সফরে গেলে তাদের ওপর নজরদারি করতে নির্দেশনা দেয়া হয় ওই চিঠিতে।

Check Also

নির্বাচনে সেনা থাকবে আওয়ামীলীগের সমস্যা কি?? আমীর খসরী

নির্বাচনে সেনা থাকলে আ. লীগের সমস্যা কী — আমীর খসরু ————————————বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: