Home / আন্তর্জাতিক / আসাম কি পরবর্তী রাখাইন হতে যাচ্ছে?

আসাম কি পরবর্তী রাখাইন হতে যাচ্ছে?

স্টাফ রিপোর্টার : কট্টর হিন্দুত্ববাদী নরেন্দ্র মোদীর শাসনামলে আসাম রাজ্য থেকে মুসলিম বিতারণের সব প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন। আসাম সরকার প্রায় ৫০ লাখ মুসলিমকে বিতারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোতে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা সম্বলিত রিপোর্ট প্রকাশ হচ্ছে। শুধু তাই নয় রাখাইনের রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর জুলুম নির্যাতন ও হত্যার জন্য সারাবিশ্বে মিয়ানমার ধিকৃত হচ্ছে। আসাম ইস্যুতে ভারতও কি সে পথে পা দিচ্ছে? ইনকিলাব পাঠকদের জন্য আল জাজিরার এই প্রতিবেদন তুলে ধরা হলো।
১৯৭১ সালের আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেছে অথচ তার পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ হাজির করতে পারেনি- এমন প্রায় ৫০ লাখ লোককে বিতাড়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে আসাম সরকার। স্বাভাবিকভাবেই অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, আসাম কি পরবর্তী রাখাইন হতে যাচ্ছে, যেখানকার ৭ লাখের বেশি সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমান সেনাবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে টিকতে না পেরে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন?
আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব লোক ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনের (এনআরসি) কাছে তাদের যথাযথ তথ্য-প্রমাণ হাজির করতে পারেনি তাদের ব্যাপারে প্রাথমিক প্রতিবেদন আগামী শনিবার (৩১ এপ্রিল) প্রকাশ করতে যাচ্ছে আসাম কর্তৃপক্ষ। ভারতের এ রাজ্য সরকার বলছে, কারা বাংলাদেশ থেকে আসামে এসেছে তাদের শনাক্ত ও বিতাড়নের জন্য এই নাগরিক শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। বিগত ৬ দশকে এই প্রথম এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হলো।
তবে সমালোচকরা আসাম সরকারের এই উদ্যোগের নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, এর ফলে আসামের মুসলিম নাগরিক ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দীর্ঘদিনের শরণার্থীরা রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়বে- যা সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রতি মিয়ানমার সরকারের আচারণের শামিল। প্রসঙ্গত, আসামে ৩ কোটি ২০ লাখের বেশি লোক বাস করে, যার তিন ভাগের এক ভাগই মুসলিম।
এনআরসির কর্মকর্তা প্রতীক হাজেলা, যিনি নাগরিকত্ব শনাক্তকরণের সঙ্গে জড়িত বুধবার আলজাজিরাকে বলেছেন, ‘শনিবার যে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে তাতে আসামে বসবাসরত প্রায় ৪৮ লাখ লোক তাদের যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি’। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে একটি খসড়া নাগরিকত্ব তালিকা প্রকাশ করে আসাম সরকার। আর চূড়ান্ত প্রতিবেদন আসছে জুনের মধ্যে প্রকাশে আদালতের নির্দেশ রয়েছে।
ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি ২০১৬ সালের নির্বাচনে আসামের ক্ষমতায় আসে। এরপর তারা- এনআরসির তালিকায় নেই এমন লোকদের বিতাড়নের অঙ্গীকার করে। আসামের অর্থ ও স্বাস্থ্য বিষয়ক মন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা বুধবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এনআরসির তালিকায় যাদের নাম নেই তাদের অবশ্যই বিতাড়ন করা হবে।’ কিন্তু কোথায় তাদের বিতাড়ন করা হবে তিনি সে বিষয়ে কিছু বলেননি। প্রাথমিক তালিকা প্রকাশের আগে সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করবে বলেও জানান আসাম সরকারের এই মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো সুযোগ কিংবা অজুহাত গ্রহণ করবো না, যাবতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’
কট্টর হিন্দুত্ববাদী ওই মন্ত্রীর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিন্দু স¤প্রদায়ের লোকদের ভারতে থাকতে দেওয়া হবে। কারণ যেসব হিন্দু নিজ দেশে নির্যাতনের স্বীকার তাদের আশ্রয় দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বেশ কিছু হিন্দু ও মুসলমান ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেয়।
দীর্ঘদিন থেকেই বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের এই রাজ্যে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব তীব্র হয়েছে। ১৯৮০ সালে আসামে অভিবাসনবিরোধী এক বিক্ষোভে বেশ কিছু লোক মারা যায়। এরপর ১৯৮৫ সালে বিক্ষোভকারীদের দাবিতে একটি প্রস্তাব পাস করা হয়। যেখানে বলা হয়েছে ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের পর যারা ওই রাজ্যে প্রবেশ করেছে তারা বিদেশি হিসেবে গণ্য হবে। সর্বশেষ নাগরিকত্ব শনাক্তকরণের শর্তে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা পরিবার ভারতীয় নাগরিক হিসেবে দাবি করতে হলে এটা প্রমাণ করতে হবে যে, তারা উল্লিখিত সময়ের আগ থেকেই আসামে অবস্থান করছে।
এদিকে বিষয়টি তত্ত¡াবধান করছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে আসাম সরকারকে নির্দেশও দিয়েছে এ আদালত। প্রক্রিয়াটি দ্রæত সমাপ্ত করতে ২০০৯ সালে আদালতে আবেদন করে আসাম পাবলিক ওয়ার্কস নামের একটি সংগঠন। স¤প্রতি আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগতও জানিয়েছে সংগঠনটি। সা¤প্রতিক নাগরিকত্ব শনাক্তকরণের অন্যতম সমর্থক অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের প্রধান উপদেষ্টা সমুজ্জল ভট্টাচার্য বলেছেন, সুপ্রিম কোর্ট আদিবাসী আসামিদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সহায়তা করছে, যারা পূর্ব বঙ্গে (এখন বাংলাদেশ) জনসংখ্যা তত্তে¡র আগ্রাসনের শিকার হয়েছিল। এনআরসির চাহিদা অনুযায়ী যারা যথাযথ তথ্য-প্রমাণ হাজির করতে পারেনি, আলতাফ হোসেন তাদের মধ্যে একজন। আসামের পশ্চিমাঞ্চলীয় বাংলা

Check Also

আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দলের নেতাকর্মীদের উস্কে দেয়ায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ব্রিটেন সরকার এবং স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের কাছে অভিযোগ দায়ের হচ্ছে

স্টার রিপোর্টার, ব্রিটেনে সন্ত্রাস উস্কে দেয়ার অভিযোগে ব্রিটেন সরকার এবং স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের কাছে শেখ হাসিনার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: