Home / আন্তর্জাতিক / নেপাল থেকেও পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ

নেপাল থেকেও পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ

আমেরিকা থেকে আয়ের ক্ষেত্রে নেপাল থেকেও অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ!

সম্পাদকের নোট –

বাংলা দৈনিক প্রথম আলোয় শনিবার, মার্চ ২৪, প্রকাশিত সাহেদ আলম এর ‘আমেরিকায় দক্ষ কর্মীর অভিবাসন – নেপালেরও পেছনে বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে আমেরিকা থেকে মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নেপাল থেকেও অনেক পিছিয়ে। আমেরিকায় দক্ষ কর্মী অভিবাসনেও বাংলাদেশ ভারত, পাকিস্তান ও নেপাল থেকে অনেক পিছনে। একথা বলার অপেক্ষা রাখেনা, প্রায় এক দশকধরে ক্ষমতায় জোর করে থাকা হাসিনা-এরশাদ-ইনু সরকার এবং তারও আগের মঈন-ফখরুদ্ধীনের অবৈধ দুই বছরের শাসনামলে ঐসব সরকারের যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়ার ফলে আমেরিকায় বাংলাদেশীদের অভিবাসন ও কর্মসংস্থান ক্রমেই সংকুচিত হয়েছে।

রিপোর্টটির উল্লেখযোগ্য অংশের পাঠ নিচে দেয়া হলো –

বাংলাদেশ বছরে আমেরিকা থেকে ৪৫ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। ভারত আয় করে ১ হাজার ৬৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অন্যদিকে নেপাল আয় করে ৩১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। নেপালের জনসংখ্যা ২ কোটি ৯০ লাখ, আর বাংলাদেশের ১৬ কোটির বেশি। জনসংখ্যার হিসেবে নেপালের আয় করার কথা ৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আমেরিকা থেকে বাংলাদেশের চেয়ে কিছুটা কম হলেও জনসংখ্যার তুলনা করলে তারা বাংলাদেশের চেয়ে বেশিই বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে।

বাংলাদেশ আর নেপালের জনসংখ্যা হিসাব করলে জনসংখ্যা অনুযায়ী ভারতের ৭৭০ কোটি ডলারের বেশি আয় হওয়ার কথা। কিন্তু তারা আয় করে অনেক বেশি। সেই তুলনায় পিছিয়ে আছে বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের পরিমাণ। বিশ্বব্যাংকের শ্রমবাজার বৈদেশিক মুদ্রা ও অভিবাসন পর্যালোচনা প্রতিবেদন থেকে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভারতের রেমিট্যান্সের তুলনামূলক এই চিত্র পাওয়া গেছে।

আমেরিকার অভিবাসন স্রোত পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলেও বিশ্বব্যাংকের এই রেমিট্যান্স প্রতিবেদনের সত্যতা পাওয়া যায়। ২০১৬ সালে সারা বিশ্ব থেকে মোট ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০৫ জন আমেরিকায় গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। সেখানে দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচ দেশের মধ্যে শুধু ভারতের ৫৪ হাজার ৬৪৭ জন, পাকিস্তানের ১৯ হাজার ৩১৩ জন ও বাংলাদেশ থেকে ১৮ হাজার ৭২৩ জন গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। বাংলাদেশের এই ১৮ হাজারের মধ্যে আবার ৯ হাজার ৮৯৯ জন এসেছেন পারিবারিক অভিবাসন সূত্রে।

বাংলাদেশ থেকে দক্ষ বা স্কিলড অভিবাসনের সুযোগ পেয়েছেন মাত্র ৬৫৩ জন। ভারতের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ২০ হাজার ৭৭৪ জন, আর নেপালে থেকে এসেছেন ১ হাজার ৩৮৬ জন। পাকিস্তান থেকে এসেছেন ১ হাজার ৯৯২ জন।

আমেরিকার অভিবাসন ব্যবস্থা সংস্কারে অভ্যন্তরীণভাবে কাজ চলছে, যেখানে পারিবারিক অভিবাসন কমিয়ে দেওয়াসহ বেশ কিছু বিষয় সামনে আনা হয়েছে। ডিভি লটারি ও পারিবারিক অভিবাসন কমিয়ে পয়েন্টভিত্তিক কর্মসংস্থান ভিসার প্রাধান্য দিতেই প্রস্তাব তুলে ধরেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে এরই মধ্যে কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা ক্যাটাগরিতে তলানির দিকে আছে বাংলাদেশ। পারিবারিক অভিবাসন স্রোত কমে গেলে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো অব্যাহত রাখতে কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন ভিসায় বাংলাদেশের প্রাধান্য বাড়াতেই জোর দিতে পরামর্শ দিচ্ছেন অভিবাসন আইনজীবীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংক্রান্ত কাগজপত্র আর ইউএসসিআইএস থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, মূলত ইবি ক্যাটাগরিতেই কর্মভিত্তিক ভিসার সুযোগ নিচ্ছে বিশ্বের অনেক দেশ। দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচ দেশ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে এই কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ড প্রাপ্তির তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান নিচের দিক থেকে দ্বিতীয়।

২০১৭ সালে বিশ্বের মোট ৪১ হাজার ৮২৭ জনকে ইবি-১ ক্যাটাগরির গ্রিন কার্ড দেওয়া হয়েছে। যার অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ২৫ হাজারের বেশি মানুষ এসেছে এশিয়া থেকে। আবার এশিয়ার মধ্যে শুধু ভারত থেকে এসেছে ১৩ হাজার ৮১ জন। এরপর পাকিস্তান থেকে ২০১ জন, নেপাল থেকে ১৪৮ জন আর বাংলাদেশ থেকে মাত্র ৯১ জন এসেছে। একই চিত্র ইবি-২ ক্যাটাগরির ভিসায়। বিশ্বের ৩৯ হাজার ৯৬১ জনের মধ্যে এশিয়া থেকে ২১ হাজার ৮৭৬ জন। এই ক্যাটাগরিতে কেবল ভারত থেকে ২ হাজার ৮৭৯ জন, নেপাল থেকে ৮৪৯ জন আর বাংলাদেশ থেকে নেপালের অর্ধেক ৪৯৩ জন এসেছে। ইবি-৩ ক্যাটাগরির পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, এশিয়ার ২৫ হাজারের বেশি গ্রিন কার্ড প্রাপ্তির তালিকায় ভারতের ৬ হাজার ৬৪১ জন, নেপালের ৪২০ জন, পাকিস্তানের ৭৮৭ জন আর বাংলাদেশের আছে মাত্র ১৫৪ জন।

২০১৫ সালে এই কর্মসংস্থান ভিসা (ইবি-১ থেকে ইবি ৫) ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ থেকে ৬৬৮ জন গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। ২০১৭ সালে কিছু সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮৪ জন। সেখানে একই বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে ইবির সব ক্যাটাগরি মিলিয়ে নেপাল থেকে গ্রিন কার্ড পেয়েছেন ১ হাজার ৪৩৬

Check Also

আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দলের নেতাকর্মীদের উস্কে দেয়ায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ব্রিটেন সরকার এবং স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের কাছে অভিযোগ দায়ের হচ্ছে

স্টার রিপোর্টার, ব্রিটেনে সন্ত্রাস উস্কে দেয়ার অভিযোগে ব্রিটেন সরকার এবং স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের কাছে শেখ হাসিনার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: